← Back to Article
Asian News24-দৈনিক এশিয়ান নিউজ২৪

কৃষিপণ্যকে প্রধান রপ্তানি পণ্যে পরিণত করতে কাজ করছে সরকার

অর্থনীতি • প্রতিবেদক: নিউজ ডেস্ক ।। • শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬, বিকাল ৫:৩৫
৫ মিনিট পাঠ • ৪২ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

কৃষিপণ্যকে দেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি পণ্যে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ ইয়াছিন। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ শুধু কৃষিপণ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণই হবে না, বরং পেঁয়াজসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য বিদেশেও রপ্তানি করবে।

শুক্রবার (৩ অক্টোবর) কুমিল্লা টাউনহল মাঠে কুমিল্লা জেলা কারিগরি, ভোকেশনাল শিক্ষা ও ট্রেইনিং ইনস্টিটিউশন ফোরাম (টিভিইটি) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী কারিগরি শিক্ষা ও উদ্ভাবনী মেলার দ্বিতীয় দিনে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘টেকসই কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য কারিগরি শিক্ষা এবং উদ্ভাবন’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাইরে থেকে কোনো পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়নি। এটি দেশের কৃষি উৎপাদনের সক্ষমতার একটি দৃষ্টান্ত। একইভাবে কাঁচা মরিচ, গাজর ও টমেটোর মতো যেসব কৃষিপণ্য এখনো আমদানি করতে হয়, ভবিষ্যতে সেগুলোর আমদানি বন্ধ করে দেশ থেকেই উৎপাদন ও রপ্তানি করার সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, বিশ্বে খাদ্যের সংকট না থাকলেও নিরাপদ খাদ্যের ঘাটতি গুরুতর। মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিরাপদ রাখতে কৃষিতে অতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার কমাতে হবে। একই সঙ্গে নিরাপদ ও টেকসই কৃষি উৎপাদন নিশ্চিত করতে হবে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, কৃষি উৎপাদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি দেশ। এখানকার মাটি, আলো, বাতাস ও বৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক সুবিধা কৃষির জন্য অনুকূল। পাশাপাশি দেশের কৃষকরাও পরিশ্রমী। এসব সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কৃষি উৎপাদন আরও বাড়ানোর যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।

ফসলে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের কারণে মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিজ্ঞানীদের গবেষণায় কৃষকদের মধ্যেও ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। তাই নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

কৃষিকাজকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করেই সামনে এগিয়ে যেতে হবে। কৃষির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাজকে সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করে উৎপাদন বাড়াতে সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে।

সেমিনারের আগে মন্ত্রী মেলায় প্রদর্শিত বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন এবং শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্প পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন উদ্ভাবনী উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজী আক্তারের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ভাইস প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার মো. সাখাওয়াত হাসান। স্বাগত বক্তব্য দেন কুমিল্লা কৃষি ও কারিগরি কলেজের অধ্যক্ষ পরমানন্দ গোস্বামী।