← Back to Article
Asian News24-দৈনিক এশিয়ান নিউজ২৪

পাটকে উচ্চমূল্যের পণ্যে রূপান্তরে সরকারের উদ্যোগ

জাতীয় • প্রতিবেদক: নিউজ ডেস্ক ।। • শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:০২
৬ মিনিট পাঠ • ৩৬ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে উৎপাদিত পাটকে বিভিন্ন উচ্চমূল্যের পণ্যে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, এভাবে পাটপণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা ও রাজস্ব আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার (জেডিপিসি) প্রাঙ্গণে ছয় দিনব্যাপী ‘বহুমুখী পাটপণ্য মেলা’ এবং নতুন বিক্রয় ও প্রদর্শন কেন্দ্র উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, তৈরি পোশাকের পাশাপাশি রেশম, তাঁত ও বহুমুখী পাটপণ্য দেশের সম্ভাবনাময় খাত। এসব পণ্যের প্রচার ও বাজার সম্প্রসারণে জেডিপিসিতে স্থায়ী শোরুম চালু করা হয়েছে। মেলা ও প্রদর্শনীর মাধ্যমে দেশীয় ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে এসব পণ্যের পরিচিতি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি বলেন, হাতে তৈরি বিভিন্ন পণ্য মূলত ক্ষুদ্র শিল্পের মাধ্যমে উৎপাদিত হচ্ছে। সরকার এসব খাতকে আরও সম্প্রসারিত করতে চায়। এ লক্ষ্যেই নিয়মিত মেলা, প্রদর্শনী এবং বাজার সম্প্রসারণের বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

পাটপণ্যের বহুমুখীকরণ ও রপ্তানি বৃদ্ধির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, জেডিপিসি এবং সংশ্লিষ্ট বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সংগঠনের সমন্বয়ে একটি পরিকল্পনা তৈরির কাজ চলছে। কাঁচা পাট রপ্তানিতে মূল্য সংযোজনের সুযোগ তুলনামূলক কম হলেও তা স্লাইভার, প্যাকেজিং, ব্লেন্ডেড ফাইবারসহ বিভিন্ন উচ্চমূল্যের পণ্যে রূপান্তর করা সম্ভব। এতে রপ্তানি আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো যেতে পারে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, গত বছর সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতি টন কাঁচা পাটের দাম ছিল প্রায় দেড় লাখ টাকা বা ১ হাজার ২০০ ডলার। একই পরিমাণ পাট দিয়ে প্যাকেজিং পণ্য তৈরি করলে প্রায় ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ ডলার আয় হতে পারে। আর পাটের সঙ্গে কটন বা অন্য ফাইবার মিশিয়ে ব্লেন্ডেড ফাইবারসহ উচ্চমূল্যের পণ্য তৈরি করা গেলে প্রতি টনে প্রায় ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত আয়ের সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, কোন খাতে কী ধরনের মূল্য সংযোজিত পণ্য তৈরি করা সম্ভব এবং সেসব পণ্যে কী পরিমাণ পাট ব্যবহার করা যাবে, তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, মেলার মাধ্যমে দেশীয় পণ্যের প্রচার বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব পণ্যের ব্যবহার উৎসাহিত করা হবে। একই সঙ্গে পলিথিনের ব্যবহার থেকে মানুষকে নিরুৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, দেশের জিআই পণ্য, বহুমুখী পাটপণ্য, রাজশাহী সিল্ক ও তাঁতসহ বস্ত্র খাতের বিভিন্ন পণ্যের পরিচিতি দেশ-বিদেশে বাড়াতে সরকার কাজ করছে।

পাটকে দেশের ঐতিহ্য ও গর্বের প্রতীক উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সময়ের সঙ্গে সোনালি আঁশের সেই ঐতিহ্য অনেকটাই ম্লান হয়েছে। পাটের উৎপাদন বৃদ্ধি, বহুমুখী পণ্যের ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং দেশি-বিদেশি বাজার সৃষ্টি করার পাশাপাশি মূল্য সংযোজনের মাধ্যমে পাটপণ্যের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে এ ধরনের মেলার আয়োজন করা হচ্ছে।

তিনি জানান, জেডিপিসি এক্সপ্রেস স্থায়ী বিক্রয় ও প্রদর্শন কেন্দ্র হিসেবে পরিচালিত হবে। এখানে বহুমুখী পাটপণ্যের পাশাপাশি তাঁত ও রেশমের বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করা হবে। ভবিষ্যতে দেশের আরও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এ ধরনের শোরুম স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

জেডিপিসি এক্সপ্রেস প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। অন্যদিকে বহুমুখী পাটপণ্য মেলা চলবে ৩ থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা।