← Back to Article
Asian News24-দৈনিক এশিয়ান নিউজ২৪

বিশ্ববাজারে আবারও কমল তেলের দাম

আন্তর্জাতিক • প্রতিবেদক: নিউজ ডেস্ক ।। • মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬, বিকাল ৪:২৯
৫ মিনিট পাঠ • ৩৪ বার পঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ঘিরে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে আবারও পতন হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ বাড়া, বিভিন্ন দেশের মজুত বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক চাহিদা নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে তেলের দামের ওপর নিম্নমুখী চাপ তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ দশমিক ৪৯ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৮ দশমিক ৪৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

তেলের বাজারে সাম্প্রতিক দরপতনের অন্যতম কারণ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতিকে দেখা হচ্ছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে ইরান ছাড়া উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল সরবরাহ যুদ্ধ শুরুর আগের পর্যায়ের প্রায় ৮১ শতাংশে ফিরে এসেছে। বিশেষ করে সৌদি আরবের উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়ায় সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।

রয়টার্সের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরাকের সরবরাহ বৃদ্ধির ফলে সেপ্টেম্বরে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে অপরিশোধিত তেল ও কনডেনসেটের রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কাও কিছুটা কমেছে।

এদিকে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বড় অর্থনীতিগুলোর নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপও তেলের দামে প্রভাব ফেলছে। জি৭ দেশগুলো জরুরি মজুত থেকে প্রায় ১০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে বাজারে তাৎক্ষণিক সরবরাহ ঘাটতির আশঙ্কা কমেছে।

তেলের দামের ক্ষেত্রে সরবরাহের পাশাপাশি বৈশ্বিক চাহিদাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশ্ব অর্থনীতির গতি কমে গেলে শিল্প, পরিবহন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানির ব্যবহার কমতে পারে। এ কারণে ভবিষ্যৎ চাহিদা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে বাজারে তেলের দাম কমার আশঙ্কায় বিক্রির চাপ বাড়তে পারে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) চলতি বছরের তেলবাজারের চাহিদা ও সরবরাহের পূর্বাভাসেও পরিবর্তন এনেছে। সংস্থাটির মাসিক প্রতিবেদনে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক উৎপাদন, ব্যবহার ও তেলের মজুতে সম্ভাব্য প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ) জানিয়েছে, বিশ্ববাজারে তেলের উৎপাদন চাহিদার তুলনায় বেশি হলে মজুত বাড়তে থাকে। মজুত বৃদ্ধির সঙ্গে সাধারণত অপরিশোধিত তেলের দামে নিম্নমুখী চাপ তৈরি হয়।

ইআইএর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের পর তেলের উৎপাদন বাড়ার সঙ্গে বৈশ্বিক মজুতও আবার বাড়তে পারে। এর ফলে আগামী বছর তেলের দাম আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে। সংস্থাটি ২০২৭ সালে ব্রেন্ট ক্রুডের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭৪ ডলার হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে।