← Back to Article
Asian News24-দৈনিক এশিয়ান নিউজ২৪

নোবেল শান্তি পুরস্কার না পেয়ে নরওয়েকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক • প্রতিবেদক: নিউজ ডেস্ক ।। • শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, বিকাল ৪:৪২
৮ মিনিট পাঠ • ২৮ বার পঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার না পেয়ে নরওয়ে ও পুরস্কার নির্বাচনকারী কমিটির সমালোচনায় মুখর হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সিদ্ধান্তের কারণে নোবেল শান্তি পুরস্কারের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দাবি করে তিনি বলেছেন, ‘আমরা নরওয়েকে ভুলব না।’ খবর রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সিরাকিউজে এক নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প নিজের কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার প্রতিনিধিত্বে যুক্তরাষ্ট্রেরই নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া উচিত ছিল।

পুরস্কার নির্বাচনকারী কমিটির সিদ্ধান্তকে ‘লজ্জাজনক ও বিব্রতকর’ আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক আদর্শের কারণে পুরস্কারটি দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, কয়েকজন উগ্র মতাদর্শীর সিদ্ধান্তে নোবেল শান্তি পুরস্কারের মর্যাদা স্থায়ীভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। পুরস্কারজয়ী দক্ষিণ আফ্রিকার আইনজ্ঞ নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাইকে নিয়েও অবজ্ঞাসূচক মন্তব্য করেন তিনি।

পুরস্কার পেলেন মানবাধিকার আইনজীবী পিল্লাই

এ বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া মানবাধিকার আইনজীবী ও সাবেক জাতিসংঘ মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার নাভি পিল্লাই। আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থা, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘদিনের ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

১৯৪১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে জন্ম নেওয়া পিল্লাই বর্ণবাদী শাসনামলে আইন পেশায় যুক্ত হন। পরবর্তী সময়ে তিনি রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ছিলেন।

সম্প্রতি অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড নিয়ে জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি। কমিশনের একটি প্রতিবেদনে গাজায় ইসরাইলের কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। ইসরাইল ওই অনুসন্ধান প্রত্যাখ্যান করেছে। পিল্লাইকে পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্তের পরও এ প্রতিবেদন নিয়ে আন্তর্জাতিক বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে।

আটটি যুদ্ধ বন্ধের দাবি ট্রাম্পের

ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছেন, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংঘাত নিরসনে ভূমিকার কারণে তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কারের যোগ্য। শুক্রবারের সমাবেশেও তিনি আটটি যুদ্ধ বন্ধে ভূমিকা রাখার কথা বলেন। পাশাপাশি ইরান ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আরও অগ্রগতির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

তবে তার উল্লেখ করা সব সংঘাতের ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী শান্তিচুক্তি হয়েছে—এমনটি নয়। কয়েকটি বিরোধে যুদ্ধবিরতি বা কূটনৈতিক উদ্যোগ থাকলেও মূল সমস্যার সমাধান এখনো হয়নি। ট্রাম্প আরও কয়েকটি সম্ভাব্য যুদ্ধ ঠেকানোর দাবি করলেও এসব বক্তব্যের পক্ষে সমাবেশে বিস্তারিত প্রমাণ দেননি বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে ট্রাম্পের অসন্তোষও নতুন নয়। ২০০৯ সালে দায়িত্ব নেওয়ার এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এ পুরস্কার পেয়েছিলেন। সেই পুরস্কারসহ নিজের কূটনৈতিক অর্জনের স্বীকৃতি পাওয়ার বিষয়ে ট্রাম্প বিভিন্ন সময়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

মাচাদুর পদক দেওয়া নিয়ে আগেও আলোচনা

ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদু ২০২৫ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তিনি প্রতীকীভাবে নিজের পদক ট্রাম্পকে দেন। তবে পদক অন্য কাউকে দেওয়া আর নোবেল পুরস্কারের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি হস্তান্তর এক বিষয় নয়। নোবেল কমিটির নিয়ম অনুযায়ী, পুরস্কার প্রত্যাহার, ভাগ করে দেওয়া কিংবা অন্য কারও নামে স্থানান্তর করা যায় না।

পুরস্কার নির্বাচন করে স্বাধীন কমিটি

নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যের পর নরওয়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কেও এর প্রভাব পড়বে কি না, তা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে পুরস্কারপ্রাপকদের নির্বাচন নরওয়ে সরকারের সরাসরি সিদ্ধান্ত নয়। নরওয়ের পার্লামেন্ট নিযুক্ত পাঁচ সদস্যের নরওয়েজীয় নোবেল কমিটি স্বাধীনভাবে বিজয়ী নির্বাচন করে।

আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থা নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের বিরোধের মধ্যেই এ বিতর্ক সামনে এসেছে। পিল্লাইয়ের মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক বিচারসংক্রান্ত কাজ এবং ট্রাম্পের পুরস্কার না পাওয়ার প্রতিক্রিয়া—দুটি বিষয় ঘিরেই নতুন করে আলোচনা চলছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার আগামী ১০ ডিসেম্বর নরওয়ের রাজধানী অসলোতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদান করা হবে।