← Back to Article
Asian News24-দৈনিক এশিয়ান নিউজ২৪

নির্মাণশ্রমিকের চাকরির প্রলোভনে রাশিয়া, যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণ গেল ২০ বাংলাদেশির

জাতীয় • প্রতিবেদক: নিউজ ডেস্ক ।। • বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, বিকাল ৫:২১
৬ মিনিট পাঠ • ২৩ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

নির্মাণপ্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৩০ বাংলাদেশিকে রাশিয়ায় নিয়ে দেশটির সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তিন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। পরে মাত্র ২১ দিনের সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে তাঁদের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে পাঠানো হয়। সেখানে ড্রোন হামলায় অন্তত ২০ বাংলাদেশির মৃত্যুর তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান এসআরবি-১০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোহা. আসাদুজ্জামান।

এ ঘটনায় মানব পাচার চক্রের অন্যতম হোতা হিসেবে অভিযুক্ত জাবালে নূর ইন্টারন্যাশনালের প্রতিষ্ঠাতা মিজানুর রহমান (৫৫) ও আবু তাহের ওরফে লেন্টুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি।

সংস্থাটির তথ্যমতে, চলতি বছরের ৭ মে জাবালে নূর, আরএস ইন্টারন্যাশনাল ও টিএস গ্রুপ নামের তিন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৩০ বাংলাদেশি রাশিয়ায় যান। নির্মাণপ্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়ার কথা বলে প্রত্যেকের কাছ থেকে গড়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা নেওয়া হয়। তবে রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর তাঁদের প্রতিশ্রুত চাকরিতে নিয়োগ না দিয়ে সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে ২১ দিনের সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে তাঁদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মোহা. আসাদুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশ থেকে যাওয়া ব্যক্তিদের যুদ্ধের উপযোগী শারীরিক সক্ষমতা, সামরিক প্রশিক্ষণ কিংবা কৌশলগত প্রস্তুতি ছিল না। এরপরও অল্প সময়ের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাঁদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর কারণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

এসআরবি কর্মকর্তার ধারণা, প্রতিপক্ষের অবস্থান শনাক্ত করার উদ্দেশ্যে তাঁদের ঝুঁকিপূর্ণভাবে যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন করা হয়ে থাকতে পারে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁদের লক্ষ্য করে প্রতিপক্ষ ড্রোন হামলা চালালে সেই হামলার সূত্র ধরে শত্রুপক্ষের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

এসআরবি জানায়, যুদ্ধক্ষেত্রের বিভিন্ন অংশে বাংলাদেশিদের মোতায়েন করা হয়েছিল। প্রথম দিনই ড্রোন হামলায় ১৭ জন নিহত হন। পরবর্তী সময়ে আরও তিনজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে ৩০ জনের মধ্যে ২০ জনের মৃত্যুর বিষয়ে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে সংস্থাটি।

জীবিতদের মধ্যে দুজন আহত অবস্থায় বাংলাদেশে ফিরেছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। তাঁদের একজন রাজন। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন হামলায় তাঁর কোমর ভেঙে যায় এবং শরীরের নিচের অংশ অবশ হয়ে পড়ে। এরপর বুকের ওপর ভর দিয়ে প্রায় চার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তিনি ক্যাম্পে পৌঁছান।

বাকি আটজনের মধ্যে দুজন মস্কোর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অন্য ছয়জন এখনো যুদ্ধক্ষেত্রে রয়েছেন বলে জানিয়েছে এসআরবি।

মানব পাচারের ঘটনায় বাংলাদেশি চক্রের পাশাপাশি রাশিয়ার ইগর নামের এক ব্যক্তি ও কিরগিজস্তানের জুলিয়া নামের এক নারীর সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানান মোহা. আসাদুজ্জামান। তাঁদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও অভিযান চলছে। চক্রের আরেক সদস্য মোস্তাফিজুরকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে।

এসআরবির প্রাথমিক অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, রাশিয়ার যুদ্ধে বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের একই ধরনের প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হয়ে থাকতে পারে। বাংলাদেশ থেকে যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে গোপালগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ, জামালপুর, পাবনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও গাজীপুরের বাসিন্দারাও রয়েছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।