← Back to Article
Asian News24-দৈনিক এশিয়ান নিউজ২৪

ফুটপাতে মারধরের ভিডিও ভাইরাল, পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

সারাদেশ • প্রতিবেদক: নিউজ ডেস্ক ।। • বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, বিকাল ৫:২৫
৬ মিনিট পাঠ • ৩০ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর ধানমন্ডিতে ফুটপাতে এক ব্যক্তিকে মারধর ও কান ধরে ওঠবস করানোর ঘটনায় খালিদ হাসান (৩৫) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে ধানমন্ডি থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবদুল হাইকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ধানমন্ডির মীনা বাজার এলাকা থেকে খালিদকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা জোনের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম তৈয়ব গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গত সোমবার ধানমন্ডির সাতমসজিদ সড়কে বেসরকারি বাংলাদেশ আই হাসপাতালের বিপরীতে শহীদ আবদুল্লাহ আল মাসুদ ওরফে মাসুদ রানা (৪৮) নামের এক ব্যক্তিকে মারধর ও কান ধরে ওঠবস করানোর অভিযোগে খালিদকে আটক করা হয়েছে।

ওসি জানান, শহীদ আবদুল্লাহ মানসিক রোগে আক্রান্ত। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, খালিদ একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে গ্রাফিকস ডিজাইনার হিসেবে কর্মরত।

এর আগে ২৩ বছর বয়সী এক তরুণীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে শহীদ আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে। এ অভিযোগকে কেন্দ্র করে তাঁকে চড়-থাপ্পড় ও লাথি মারার পাশাপাশি কান ধরে ওঠবস করানো হয় বলে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রকাশ্যে এভাবে মারধরের ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্যদের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি ইমদাদুল ইসলাম জানান, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এএসআই আবদুল হাইকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে তাঁর দায়িত্ব ছিল। তবে সেখানে উপস্থিত অন্য দুই পুলিশ সদস্য পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্টের (দাঙ্গা দমন বিভাগ) সদস্য হওয়ায় তাঁদের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানেন না বলে জানান।

দুই মিনিটের ভিডিওতে যা দেখা গেছে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ২ মিনিট ১২ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, এক যুবক ক্ষুব্ধ অবস্থায় গালাগাল করতে করতে ওই ব্যক্তিকে চড় ও লাথি মারছেন। ঘটনাটি দেখতে ফুটপাতে পথচারীদের ভিড় জমে। তাঁদের কেউ দাঁড়িয়ে দেখছিলেন, আবার কেউ মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন।

ভিডিওতে উপস্থিত কয়েকজন পথচারীর কথোপকথনও শোনা যায়। তাঁদের কাউকে বলতে শোনা যায়, ‘মেয়ের গায়ে হাত দিয়েছে’, ‘ক্যানটিনে এ ঘটনা ঘটে’ এবং ‘মা-বোন নাই!’

একপর্যায়ে এক পথচারী মারধরের শিকার ব্যক্তির কাছে গিয়ে সেখানে থাকা দুই পুলিশ সদস্যের হাতে তাঁকে তুলে দেওয়ার কথা বলেন। পরে ওই ব্যক্তিকে বসা অবস্থা থেকে উঠে দাঁড়াতে দেখা যায়। তাঁর মোবাইল ফোন নিয়ে এক পথচারী ও মারধরকারী যুবক তাঁকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন।

ভিডিওতে উত্তেজিত যুবককে বলতে শোনা যায়, ‘কিসের সরি, সরি বললেই সব শেষ হয়ে যায়?’ এরপর ‘মায়ের গায়ে হাত দিয়েছিস’ বলে ওই ব্যক্তিকে আবারও চড়-থাপ্পড় মারতে দেখা যায়।

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, মারধরের ঘটনা চলার সময় কয়েক হাত দূরে পুলিশের দুই সদস্য উপস্থিত ছিলেন। আশপাশের লোকজনের মতো তাঁরাও ঘটনাটি দেখছিলেন বলে ভিডিওতে প্রতীয়মান হয়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।