← Back to Article
Asian News24-দৈনিক এশিয়ান নিউজ২৪

মাদক-জুয়ার আসর বন্ধের ঘোষণা, পরে মারধরের শিকার বিএনপি নেতার মৃত্যু

অপরাধ-দূর্নীতি • প্রতিবেদক: নিউজ ডেস্ক ।। • বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৪১
৪ মিনিট পাঠ • ৩১ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

বরিশালের মুলাদীতে মাদক ও জুয়ার আসর এবং অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পর শুক্কুর আলী ব্যাপারী (৪০) নামে এক বিএনপি নেতাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভোররাত ৪টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহত শুক্কুর আলী উপজেলার গাছুয়া ইউনিয়নের চরধলেশ্বর গ্রামের আব্দুস ছত্তার ব্যাপারীর ছেলে। তিনি গাছুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য ছিলেন।

নিহেতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার উপজেলার ডুমুরীতলা লঞ্চঘাট এলাকায় মাদক সেবনের আড্ডা, জুয়া খেলা এবং নয়াভাঙনী নদ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের ঘোষণা দেন শুক্কুর আলী। এসব কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে কাজ করার কথাও জানান তিনি।

পরিবারের অভিযোগ, এর জের ধরে বুধবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে ডুমুরীতলা ফরাজী বাড়ি লঞ্চঘাট এলাকার সালাউদ্দীনের দোকানে চা পান করার সময় তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়।

শুক্কুর আলীর বাবা আব্দুস ছত্তার ব্যাপারীর অভিযোগ, ডুমুরীতলা গ্রামের মোতালেব ওরফে মতু ফরাজীর ছেলেরা রহমত ফরাজী (৩৮), বারেক ফরাজী (৩৬), মুজাম্মেল ফরাজী (৩২), মন্টু ফরাজী, রফিক ফরাজী এবং তাসলিমা নাসরিনসহ কয়েকজন মিলে তাঁকে মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

অভিযুক্ত বারেক ফরাজী গাছুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ছিলেন। বর্তমানে তিনি ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে।

হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু

হামলার পর স্থানীয়রা শুক্কুর আলীকে উদ্ধার করে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মীরগঞ্জ ফেরিঘাট এলাকায় বৃহস্পতিবার ভোররাত ৪টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো. সোহেল রানা জানান, মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে এক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর তাঁরা পেয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যায় তাঁকে মারধর করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণের জন্য মরদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে বলে জানান ওসি। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।