← Back to Article
Asian News24-দৈনিক এশিয়ান নিউজ২৪

কারিগরি শিক্ষায় বাংলাদেশ-চীন অংশীদারত্ব, আধুনিক হবে ৮ প্রতিষ্ঠান

শিক্ষা • প্রতিবেদক: নিউজ ডেস্ক ।। • শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, বিকাল ৪:৪৬
৭ মিনিট পাঠ • ২৩ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার বৈশ্বিক মানদণ্ড নির্ধারণে ‘ফ্রেমওয়ার্ক অব ওয়ার্ল্ড ভোকেশনাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশন স্ট্যান্ডার্ডস’ বা ‘বেইজিং এগ্রিমেন্ট’ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়ন, যৌথ শিক্ষাক্রম চালু এবং নতুন কারিগরি ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ ছয়টি অগ্রাধিকারমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) চীনের তিয়ানজিনে আয়োজিত ‘ওয়ার্ল্ড ভোকেশনাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট কনফারেন্স ২০২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে এসব কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

বৈশ্বিক কারিগরি শিক্ষার নতুন কাঠামো প্রকাশের অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বেইজিং এগ্রিমেন্টে সমর্থন জানানো দেশগুলোর অন্যতম প্রতিনিধি হিসেবে তিনি সমাপনী আয়োজনে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানের যৌথ স্বাক্ষর পর্বে বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী ড. মিলন এবং চীনের শিক্ষা উপমন্ত্রী ওয়াং গুয়াংইয়ান দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

সম্মেলনে ৪০টির বেশি দেশের শিক্ষামন্ত্রী এবং শতাধিক দেশের সরকারি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। বেইজিং এগ্রিমেন্ট ছাড়াও সেখানে চীনের বৃত্তিমূলক শিক্ষা নিয়ে শ্বেতপত্র, ‘লুবান ওয়ার্কশপের জাতীয় মানদণ্ড’ এবং আন্তর্জাতিক কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (টিভিইটি) খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে আরও কয়েকটি দলিল প্রকাশ করা হয়।

বাংলাদেশের এই বৈশ্বিক কাঠামোর সঙ্গে সম্পৃক্ততা দেশের তরুণদের আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী দক্ষতা অর্জনে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মান উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের উপযোগী মানবসম্পদ তৈরির সুযোগ বাড়তে পারে।

সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, “এই সমঝোতা স্মারক এবং বেইজিং এগ্রিমেন্ট একত্রে বাংলাদেশের দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষায় অভূতপূর্ব গতি সঞ্চার করবে।”

তিনি আরও আশাবাদ জানান, আন্তর্জাতিক কারিগরি শিক্ষার মানদণ্ড এবং দুই দেশের বাস্তবভিত্তিক যৌথ উদ্যোগ বাংলাদেশের তরুণদের জন্য বিশ্বজুড়ে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করবে।

দুই দেশের প্রতিনিধিরা মনে করেন, এ সহযোগিতা বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই আর্থসামাজিক অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখবে।

সমঝোতার আওতায় ছয়টি অগ্রাধিকারমূলক উদ্যোগ

সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও চীন ছয়টি ক্ষেত্রে যৌথভাবে কাজ করবে।

১. আটটি কারিগরি প্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়ন: চীনের কারিগরি শিক্ষাক্রম, পাঠদান পদ্ধতি ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ মডেল অনুসরণ করে বাংলাদেশের আটটি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উন্নত করা হবে।

২. নতুন কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা: দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশে একটি কারিগরি ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

৩. যৌথ শিক্ষাক্রম চালু: কারিগরি শিক্ষার্থীদের জন্য ২+২ ও ৩+১ মডেলের যৌথ একাডেমিক কর্মসূচি চালু করা হবে।

৪. আধুনিক প্রশিক্ষণ অবকাঠামো: কারিগরি প্রতিষ্ঠানগুলোতে উন্নত প্রশিক্ষণ সুবিধা ও স্মার্ট শ্রেণিকক্ষ গড়ে তোলা হবে।

৫. চীনা শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থান: চীনের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বাংলাদেশি কারিগরি শিক্ষার্থীদের সরাসরি চাকরির সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

৬. বৃত্তির সুযোগ সম্প্রসারণ: বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য চীনে পড়াশোনার বৃত্তির সুযোগ আরও বাড়ানো হবে।

এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নে চীনের গুয়াংডং, জিয়াংসি এবং অন্যান্য প্রদেশের স্বনামধন্য কারিগরি ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার অংশীদার হিসেবে কাজ করবে।