← Back to Article
Asian News24-দৈনিক এশিয়ান নিউজ২৪

অর্থপাচারের মামলায় অ্যাপল গ্লোবালটেলের দুই কর্মকর্তার কারাদণ্ড

আইন-আদালত • প্রতিবেদক: নিউজ ডেস্ক ।। • সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, বিকাল ৪:৫২
৪ মিনিট পাঠ • ২১ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

আন্তর্জাতিক ইনকামিং কলের মাধ্যমে ৪৬৩ কোটি টাকার বেশি অর্থপাচারের মামলায় অ্যাপল গ্লোবালটেল কমিউনিকেশন্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) অভিউর রহমান খান ও চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মজুমদারকে দুই ধারায় মোট ২২ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তবে দুই ধারার সাজা একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় তাঁদের ১২ বছর কারাভোগ করতে হবে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুন এ রায় ঘোষণা করেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কৌঁসুলি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম জানান, অর্থপাচারের দায়ে দুই আসামিকে ১২ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৪৬৩ কোটি ৩৭ লাখ ৪৬ হাজার ১৪৯ টাকার দ্বিগুণ, অর্থাৎ ৯২৬ কোটি ৭৪ লাখ ৯২ হাজার ২৯৮ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। এই অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাঁদের আরও এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

এ ছাড়া অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের দায়ে তাঁদের প্রত্যেককে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

দুদকের কৌঁসুলি বলেন, দুই ধারার সাজা একসঙ্গে চলবে বলে আসামিদের কার্যত ১২ বছর কারাগারে থাকতে হবে। রায়ে অর্থদণ্ডের ৯২৬ কোটি ৭৪ লাখ ৯২ হাজার ২৯৮ টাকা আদায় করা না গেলে তাঁদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

আদালতের স্টেনোগ্রাফার সোহানুর রহমান জানান, দুই আসামিই পলাতক। তাঁদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানার পাশাপাশি গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ইনকামিং কল বা সেবা রপ্তানির মাধ্যমে ৪৬৩ কোটি ৩৭ লাখ ৪৬ হাজার ১৪৯ টাকা মূল্যের ৬ কোটি ১ লাখ ৭৮ হাজার ৫২১ মার্কিন ডলার পাচারের অভিযোগে ২০২২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি দুদকের পরিচালক জালাল উদ্দিন আহাম্মদ মামলা করেন।

তদন্ত শেষে গত বছরের ২৫ মার্চ অভিউর রহমান খান ও মহিউদ্দিন মজুমদারকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন আহাম্মদ। পরে গত ৬ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়।

বিচার চলাকালে আদালত আটজন সাক্ষীর মধ্যে সাতজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। আসামিরা পলাতক থাকায় তাঁদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি।