নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনায় নাগরিকদের অভিযোগ দ্রুত কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দিতে ‘ক্লিন কেয়ার’ নামে ডিজিটাল অ্যাপ চালু করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। চালুর পর থেকে অ্যাপটিতে জমা পড়েছে ২ হাজার ৮১০টি অভিযোগ। এর মধ্যে ১ হাজার ৯০৯টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। বাকি ৬৫৫টি অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
ডিএসসিসির তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ জুলাই ২০২৬ আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাপটির উদ্বোধন করা হয়। পরে ১ আগস্ট থেকে শুরু হয় এর পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম। ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দেখা যায়, অ্যাপটির মাধ্যমে নাগরিকেরা পরিচ্ছন্নতাসংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার কথা সরাসরি সিটি করপোরেশনকে জানাতে পারছেন।
অ্যাপটিতে পাওয়া অভিযোগের মধ্যে ২৪৬টি সিটি করপোরেশনের নিজস্ব কার্যপরিধির বাইরে। এসব অভিযোগ ওয়াসা, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), রেলওয়ে, ডিপিডিসি এবং আইন ও প্রশাসনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সিটি করপোরেশনের অভিযোগ নিষ্পত্তির হার হিসাব করার ক্ষেত্রে এই ২৪৬টি অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
অভিযোগের পাশাপাশি অ্যাপটি ব্যবহার করে নাগরিকদের দেওয়া মতামতও ইতিবাচক বলে জানিয়েছে ডিএসসিসি। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ‘ক্লিন কেয়ার’ অ্যাপে ৪৩৩টি রিভিউ জমা পড়েছে। এর মধ্যে ৩৬১টি ইতিবাচক, যা মোট রিভিউয়ের ৮৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ। অ্যাপটির গড় রেটিং পাঁচের মধ্যে ৪ দশমিক ৫।
নগরবাসীর অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়া সহজ করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। রাস্তায় ময়লা জমে থাকা, নির্ধারিত সময়ে বর্জ্য অপসারণ না হওয়া কিংবা পরিচ্ছন্নতাসংক্রান্ত অন্য কোনো সমস্যা দেখা দিলে অনেক সময় সংশ্লিষ্ট দপ্তর খুঁজে বের করা এবং অভিযোগের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে গিয়ে নাগরিকদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। ডিজিটাল এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
শুধু অভিযোগ গ্রহণ নয়, সেগুলোর ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং নিষ্পত্তির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করাও অ্যাপটির কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নাগরিকদের দেওয়া তথ্যের মাধ্যমে কোন এলাকায় পরিচ্ছন্নতাসেবা প্রয়োজন, কোথায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি এবং কোন অভিযোগগুলো এখনো সমাধানের অপেক্ষায় রয়েছে—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নজর দিতে পারে।
ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তুলতে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগের পাশাপাশি নগরবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। ‘ক্লিন কেয়ার’ অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিকদের মতামত ও পরামর্শ নিয়ে পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও আধুনিক ঢাকা গড়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
অ্যাপটির প্রতি আস্থা রাখার জন্য নাগরিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রশাসক আরও জানান, ভবিষ্যতে ডিএসসিসির অন্যান্য নাগরিক সেবাও এই প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তা বাস্তবায়িত হলে পরিচ্ছন্নতাসংক্রান্ত অভিযোগের পাশাপাশি আরও বিভিন্ন সেবা একই ডিজিটাল মাধ্যমে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বর্তমান সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচির অংশ হিসেবে জবাবদিহিমূলক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘ক্লিন কেয়ার’ চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি নাগরিকদের সরাসরি সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তবে অ্যাপটির কার্যকারিতা মূল্যায়নে শুধু অভিযোগের সংখ্যা বা ইতিবাচক রেটিং বিবেচনা করাই যথেষ্ট নয়। অভিযোগ নিষ্পত্তিতে কত সময় লাগছে, একই সমস্যা বারবার দেখা দিচ্ছে কি না এবং নাগরিকেরা বাস্তবে কতটা উন্নত সেবা পাচ্ছেন, সেগুলোও গুরুত্বপূর্ণ। ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা ৬৫৫টি অভিযোগের সমাধান এবং ভবিষ্যতে সেবার মান বজায় রাখা এ উদ্যোগের কার্যকারিতা মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, নগর পরিচ্ছন্নতা একটি ধারাবাহিক কার্যক্রম। এটি শুধু নির্দিষ্ট সময়ের পরিচ্ছন্নতা অভিযান বা বর্জ্য অপসারণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; প্রয়োজন নিয়মিত তদারকি, দ্রুত অভিযোগ গ্রহণ এবং কার্যকর সমাধান। নাগরিকদের তথ্য ও মতামত সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমকে আরও সুনির্দিষ্ট করতে সহায়তা করতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি, নিয়মিত অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং ভবিষ্যতে আরও নাগরিক সেবা যুক্ত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ‘ক্লিন কেয়ার’ নগরবাসী ও সিটি করপোরেশনের মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ করবে। নাগরিক অংশগ্রহণ ও প্রশাসনিক জবাবদিহির সমন্বয়ে উদ্যোগটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় ভূমিকা রাখতে পারে।
