← Back to Article
Asian News24-দৈনিক এশিয়ান নিউজ২৪

৩৩ হাজার পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ২ লাখের বেশি আনসার সদস্য

ধর্ম • প্রতিবেদক: নিউজ ডেস্ক ।। • বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:২৯
৭ মিনিট পাঠ • ২৫ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

শারদীয় দুর্গোৎসব-২০২৬ উপলক্ষে সারাদেশের ৩৩ হাজার ১৬৫টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ২ লাখ ১২ হাজার ৮১৮ জন আনসার-ভিডিপি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। উৎসবকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ১৩১টি ঘটনায় প্রতিরোধমূলক ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ সময় ২৪টি পৃথক ঘটনায় ৪৯ জনকে আটক এবং ১৫ শিশুকে উদ্ধার করা হয়। দায়িত্ব পালনকালে চার আনসার-ভিডিপি সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। আহত ও অসুস্থ হয়েছেন আরও ১৭ জন।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সহকারী পরিচালক ও গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. নাজমুস সাকিব স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৫ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত দুর্গোৎসবের নিরাপত্তায় প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, দক্ষ জনবল মোতায়েন এবং দ্রুত সাড়াদানের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পাশাপাশি পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে পূজামণ্ডপ ও জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। উৎসব শেষে নিরাপত্তা কার্যক্রমও অব্যাহত রাখা হয়।

১০৪টি স্ট্রাইকিং ফোর্স টিম প্রস্তুত

জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আনসার ব্যাটালিয়নের সমন্বয়ে ১০৪টি স্ট্রাইকিং ফোর্স টিম গঠন করা হয়। এসব দলে মোট ৬২৪ জন সদস্যকে প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। এ ছাড়া ব্যক্তিগত উদ্যোগে আয়োজিত পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতিও বাহিনীর নিজস্ব পর্যবেক্ষণব্যবস্থার মাধ্যমে নজরদারিতে রাখা হয়।

বাহিনীর সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে ১৩১টি ঘটনায় বিভিন্ন ধরনের প্রতিরোধমূলক ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রতিমা ভাঙচুরের চেষ্টা ও ভাঙচুর প্রতিরোধে ২০টি, বিবাদমান সমস্যা সমাধানে ৩৬টি, অগ্নিসংযোগ প্রতিরোধে দুটি এবং মাদকসংক্রান্ত ১৩টি ঘটনা রয়েছে।

এ ছাড়া ২৪টি পৃথক ঘটনায় ৪৯ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে চুরির অভিযোগে আটক হন ছয়জন। পাশাপাশি ১৫টি শিশুকে উদ্ধার এবং ১৫টি ঘটনায় মূল্যবান সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। বিবিধ সমস্যা-সংক্রান্ত আরও নয়টি ঘটনার তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে।

নিরাপত্তায় প্রযুক্তির ব্যবহার

দুর্গোৎসবের নিরাপত্তা কার্যক্রমে ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’ ব্যবহার করা হয়। এ ব্যবস্থার আওতায় ৬৬ হাজার ৩৩০ জন নারী আনসার-ভিডিপি সদস্য দিন-রাত দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত পূজামণ্ডপে কোনো ঘটনা বা দুর্ঘটনা ঘটলে অ্যাপের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক তথ্য জানানোর ব্যবস্থা ছিল।

আনসার-ভিডিপির দাবি, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা, উসকানি, গুজব ও অপরাধ প্রতিরোধে পূজা উদযাপন কমিটি, পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হয়েছে।

এ ছাড়া সদস্য নির্বাচন ও মোতায়েনের কাজে ‘এভিএমআইআএস’ এবং ‘এসটিডিএমএস’ সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়। বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব প্রযুক্তি জনবল নির্বাচন, সুশৃঙ্খল মোতায়েন এবং নিরাপত্তা কার্যক্রমে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সহায়তা করেছে।

নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিদর্শন মহাপরিচালকের

আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ, পূজা উদযাপন কমিটি ও আনসার-ভিডিপি সদস্যদের সহযোগিতা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর সমন্বিত ভূমিকার প্রশংসা করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ২০ অক্টোবর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির আয়োজনে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে মহাপরিচালক বলেন, ক্ষমতাকেন্দ্রিক মানসিকতার পরিবর্তে জনসেবা, জবাবদিহি ও জনসম্পৃক্ততাকে প্রাধান্য দিয়ে সম্মিলিতভাবে দেশের জন্য কাজ করার সংস্কৃতি আরও সুদৃঢ় করতে হবে।

একই সঙ্গে দুর্গোৎসবের দায়িত্ব পালনকালে মৃত্যুবরণকারী আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের আত্মত্যাগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।