← Back to Article
Asian News24-দৈনিক এশিয়ান নিউজ২৪

ইজতেমার তারিখ ঘোষণা ও হত্যাকাণ্ডের বিচার চায় সাদপন্থীরা

ধর্ম • প্রতিবেদক: নিউজ ডেস্ক ।। • সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, বিকাল ৪:৩৩
৬ মিনিট পাঠ • ২১ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

দ্রুত বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণা, অপপ্রচার ও উসকানি বন্ধ এবং একপক্ষীয় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধসহ চার দফা দাবি জানিয়েছেন মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুসারীরা। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং কাকরাইল মসজিদ ও ইজতেমা ময়দানের ন্যায্য বণ্টনের দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। ‘তাবলিগ জামাত বাংলাদেশের বরেণ্য ওলামায়ে কেরাম ও সুশীল সমাজ’ ব্যানারে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণা এবং তাবলিগ জামাতের চলমান সংকট নিরসনের আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং বিভাগের শিক্ষক মো. নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, প্রায় ৬০ বছর ধরে তাবলিগ জামাতের মূলধারা টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন করে আসছে। তবে গত ছয়-সাত বছর ধরে সংগঠনটির অভ্যন্তরীণ বিরোধকে কেন্দ্র করে ইজতেমা ঘিরে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য, বিতর্ক ও উসকানি বেড়েছে। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বিশ্ব ইজতেমার আন্তর্জাতিক আবেদন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বক্তারা।

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, বিশ্ব তাবলিগের আমির মাওলানা সাদ কান্ধলভীকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিল, মসজিদের মিম্বর ও অন্যান্য পরিসরে বিতর্কিত বক্তব্য, অভিযোগ ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তাঁদের মতে, তাবলিগ জামাতের বিভাজন নিরসনে আলেমদের নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন। কোনো পক্ষের হয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া কিংবা সরকারের ওপর একতরফা চাপ সৃষ্টির পরিবর্তে শান্তিপূর্ণ সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে মারকাযুস সুফফাহ আল ইসলামিয়া বাংলাদেশের প্রিন্সিপাল মুফতি শফিউল্লাহ মাক্কী অভিযোগ করেন, সাদপন্থীরা ইজতেমা আয়োজনের উদ্যোগ নিলে জুবায়েরপন্থীরা বাধা দেন। এবারও তাঁদের প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি তৃতীয় একটি পক্ষ যুক্ত হয়ে বিষয়টিকে রাজনৈতিক রূপ দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তৃতীয় পক্ষ কারা—এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের সাবেক কর্মকর্তা রেজাউল করিম হেফাজতে ইসলামের একটি অংশের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলেন। তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক সংবাদ সম্মেলন ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় রয়েছে। অন্য সময়ে তাঁদের সক্রিয় দেখা না গেলেও ইজতেমার সময় তাঁরা তৎপর হয়ে ওঠেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সাভারের মারকাজুল উলুম আশ শারইয়্যাহর জ্যেষ্ঠ মুহাদ্দিস মাওলানা গোলাম মুস্তাফা, রাজধানীর ভাটারার মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবদুল আহাদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক মঞ্জুরুল হক, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শফিউল বারী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আশফাক এবং ফার্মেসি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক খালেদসহ অন্যরা।