← Back to Article
Asian News24-দৈনিক এশিয়ান নিউজ২৪

ইসলামী ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ ও পাচার: সাবেক ভূমিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

আইন-আদালত • প্রতিবেদক: নিউজ ডেস্ক ।। • মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, বিকাল ৫:৩৮
৫ মিনিট পাঠ • ১৬ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

ইসলামী ব্যাংকের চট্টগ্রামের জুবলী রোড শাখা থেকে ভুয়া বাই-মুরাবাহা ডিলের মাধ্যমে ৬৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ ও অর্থপাচারের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মো. রুবেল হোসেন বাদী হয়ে চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ মামলাটি করেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন আরামিট সিমেন্ট পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুকমীলা জামান, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহ আলম, সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) একেএম মারুফ এবং প্রতিষ্ঠানটির এজিএম ও ক্লাসিক ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। এ ছাড়া ইসলামী ব্যাংকের জুবলী রোড শাখার ১০ কর্মকর্তাকেও আসামি করা হয়েছে।

দুদকের এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে আরামিট সিমেন্টের অনুকূলে ৩৫০ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন করা হয়। এর পর ২০১৮ সালের ২৪ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ৯ নভেম্বর পর্যন্ত ২৭টি ভুয়া বাই-মুরাবাহা ডিলের মাধ্যমে ৬৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা, জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ভুয়া নথিপত্র তৈরি করে ঋণের অর্থ আত্মসাৎ করেন। আরামিট গ্রুপের কর্মচারী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমকে ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারী হিসেবে দেখিয়ে তাঁর মালিকানাধীন ক্লাসিক ট্রেডিংকে পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। তবে প্রতিষ্ঠানটি থেকে বাস্তবে কোনো পণ্য সরবরাহ করা হয়নি বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ভুয়া ইনভয়েস ও অন্যান্য কাগজপত্রের বিপরীতে পে-অর্ডারের মাধ্যমে অর্থ ক্লাসিক ট্রেডিংয়ের ব্যাংক হিসাবে জমা করা হয়। পরে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ঘুরিয়ে ওই অর্থ আরামিট সিমেন্টের হিসাবে স্থানান্তর করা হয়।

এজাহারে আরও বলা হয়, ক্লাসিক ট্রেডিংয়ের নামে ব্যাংক হিসাব খোলার সময় যে ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছিল, সেখানে প্রতিষ্ঠানটির কোনো কার্যালয় বা গুদামের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানটির আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমেরও কোনো প্রমাণ মেলেনি বলে দুদকের অনুসন্ধানে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানে এসব তথ্য উঠে আসার পর দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় মামলাটি করা হয়েছে। তদন্তে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।