← Back to Article
Asian News24-দৈনিক এশিয়ান নিউজ২৪

জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে দিল্লিতে ৫০ হাজার মানুষের সমাবেশের প্রস্তুতি

আন্তর্জাতিক • প্রতিবেদক: নিউজ ডেস্ক ।। • শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, বিকাল ৪:৪৯
৫ মিনিট পাঠ • ৮ বার পঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আগামীকাল রোববার (১ নভেম্বর) দিল্লিতে বড় ধরনের সমাবেশ করতে যাচ্ছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে কংগ্রেসের নেতৃত্বে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকদের ধারণা, সমাবেশে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ অংশ নিতে পারেন।

সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজধানীর ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দান ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে দিল্লি পুলিশ। প্রায় ১২ একর আয়তনের ময়দানজুড়ে বসানো হয়েছে ২০০ থেকে ২৫০টি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সিসিটিভি ক্যামেরা। নজরদারিতে ব্যবহার করা হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তিও। ক্যামেরায় ধারণ করা দৃশ্য পর্যবেক্ষণের জন্য স্থাপন করা হয়েছে বিশেষ নিয়ন্ত্রণকক্ষ।

দিল্লি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সমাবেশের নিরাপত্তায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করবেন কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা। নিরাপত্তার স্বার্থে পুরো ময়দানকে ১৪টি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি অঞ্চলের দায়িত্বে থাকবেন সহকারী পুলিশ কমিশনার পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা।

বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি বিবেচনায় রেখে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, প্রবেশপথে তল্লাশি এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ময়দানের আটটি প্রবেশপথের মধ্যে সাধারণ মানুষের জন্য খোলা রাখা হবে তিনটি। প্রবেশের আগে দুই দফা তল্লাশি করা হবে। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে বসানো হচ্ছে ধাতব শনাক্তকরণ যন্ত্র এবং ব্যাগ পরীক্ষার ব্যবস্থা। জরুরি পরিস্থিতিতে অংশগ্রহণকারীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে বিকল্প পথও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

আয়োজকদের ঘোষণা অনুযায়ী, রোববার দুপুর ১২টায় কর্মসূচি শুরু হবে। মিন্টো রোড ও কনট প্লেসের সংযোগস্থল থেকে বিরোধীদের একটি মিছিল রামলীলা ময়দানের উদ্দেশে যাত্রা করবে। পরে সেখানে সমাবেশে যোগ দেবেন বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতারা।

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া এবং নির্বাচনি ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করাই এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।

তবে সমাবেশ আয়োজনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু শর্ত দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। নির্দেশনা অনুযায়ী, সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে কর্মসূচি শেষ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পর ময়দানে অবস্থান করা যাবে না। এ ছাড়া অন্য কোনো স্থানের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার অনুমতিও দেওয়া হয়নি।

অংশগ্রহণকারীদের ব্যবস্থাপনায় পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক, পানীয় জল এবং নারীদের জন্য পৃথক শৌচাগারের ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আয়োজকদের। সমাবেশ ঘিরে দিল্লির বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণেরও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীদের এই কর্মসূচি ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।