আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়া অঙ্গরাজ্যের ইরি শহরে ভয়াবহ বন্দুক হামলায় আটজন নিহত হয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের পর ৪৫ বছর বয়সি সন্দেহভাজন হামলাকারীও আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিহতদের মধ্যে গর্ভবতী এক নারী, দুই শিশুসহ হামলাকারীর সাতজন নিকটাত্মীয় রয়েছেন। অপর নিহত ব্যক্তি ওই গর্ভবতী নারীর বন্ধু।
শনিবার সংবাদ সম্মেলনে ইরি শহরের পুলিশ প্রধান রিক লোরা জানান, শুক্রবার বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। উদ্ধার করা অডিও-ভিডিও এবং অন্যান্য প্রমাণ বিশ্লেষণ করে ঘটনার ধারাবাহিকতা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়ির ভেতর থেকে গুলির শব্দ শোনার পর দুই নারী উদ্বিগ্ন হয়ে দরজার কাছে যান। এ সময় বন্দুকধারী ঘর থেকে বেরিয়ে তাঁদের গুলি করেন। পরে তিনি আবার বাড়ির ভেতরে চলে যান।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। বাড়ির বাইরে প্রথমে দুই নারীর মরদেহ দেখতে পান সদস্যরা। ভেতরের পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পেতে প্রথমে রোবট ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়। পরে তল্লাশি চালিয়ে বাড়ির নিচতলায় এক বছর বয়সি একটি কন্যাশিশু ও পাঁচ বছর বয়সি আরেক শিশুর মরদেহ পাওয়া যায়। সিঁড়ির কাছাকাছি আরও দুই নারী ও দুই তরুণের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দ্বিতীয় তলায় পাওয়া যায় সন্দেহভাজন বন্দুকধারীর মরদেহ। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তিনি নিজের গুলিতেই মারা যান।
ঘটনার ভয়াবহতা তুলে ধরে পুলিশ প্রধান রিক লোরা বলেন, পরিবারের প্রতি সম্মান জানিয়ে বাড়ির ভেতরের দৃশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত প্রকাশ করা হচ্ছে না। তবে এ হত্যাকাণ্ড স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
হত্যাকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান
এখনো হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। বাইরে নিহত দুই নারীর মোবাইল ফোনের তথ্য পর্যালোচনা এবং স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার পেছনের কারণ খুঁজছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশ জানায়, গুলির শব্দ শনাক্তকারী ‘শটস্পটার’ প্রযুক্তির সতর্কবার্তা পাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে উদ্ধার অভিযানে সোয়াট দলের ব্যবহৃত ফ্ল্যাশব্যাং ও রাসায়নিক মিউনিশনের শব্দকে অনেকে নতুন করে গুলির শব্দ বলে মনে করেছিলেন।
এ ঘটনায় গভীর শোক জানিয়েছেন পেনসিলভেনিয়ার গভর্নর জোশ শাপিরো ও ইরি শহরের মেয়র দারিয়া ডেভলিন। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়ে জেলা অ্যাটর্নি এলিজাবেথ হার্জ বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
এক সমাবেশে গভর্নর শাপিরো বলেন, দিনটি পুরো অঙ্গরাজ্যের জন্য অত্যন্ত শোকাবহ।
