Skip to main content

ফেসবুকে পরিচয়, কক্সবাজার যাত্রা—তাজমীন হত্যাকাণ্ডে সামনে আসছে নতুন তথ্য

�
• 2 min • 35 views

নিজস্ব প্রতিবেদক

কুমিল্লার কিশোরী জান্নাতুন তাজমীন হত্যাকাণ্ডের তদন্তে তার কক্সবাজার যাত্রা ঘিরে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে কর্মরত রাজু চৌধুরীর সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পরিচয় হয়েছিল তাজমীনের। ওই তরুণের সঙ্গে দেখা করতেই সে কক্সবাজার গিয়েছিল বলে জানা গেছে।

তাজমীনের মা কেয়া খাতুন জানান, কক্সবাজার যাওয়ার সময় মেয়ে তাকে বলেছিল, সে এক বান্ধবীর বাসায় যাচ্ছে। তবে ওই বান্ধবীর নাম কিংবা তার মা-বাবার পরিচয় জানতে চাইলেও তাজমীন কিছু জানায়নি।

কেয়া খাতুন সাংবাদিকদের বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে মেয়ের সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। তখন তাজমীন জানিয়েছিল, সে এক বান্ধবীর সঙ্গে রয়েছে। মেয়েকে নিয়ে আসতে ওই বান্ধবীর বাড়িতে যাওয়ার কথাও ভেবেছিলেন তিনি।

মেয়ের বন্ধুবান্ধব ও চলাফেরা নিয়ে আগে থেকেই উদ্বিগ্ন ছিলেন কেয়া খাতুন। কোনো বিপদ ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কায় প্রায় ছয় মাস তাজমীনকে স্কুলে যেতে দেননি বলে জানান তিনি। মেয়ের ওপর নজর রাখার পাশাপাশি তার বন্ধুত্ব ও চলাফেরা সম্পর্কেও খোঁজখবর নিতেন। কিন্তু এত সতর্কতার পরও মেয়েকে রক্ষা করতে পারেননি বলে আক্ষেপ করেন তিনি।

এদিকে তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাজমীনের মা যে বান্ধবীকে নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন, ওই বান্ধবী বয়সে তাজমীনের চেয়ে বড়। তবে হত্যাকাণ্ডে তার বা সংশ্লিষ্ট অন্য কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তাজমীনের মোবাইল গেমে আসক্তি এবং আচরণ নিয়েও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে কথা বলা হয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এ হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ব্যক্তি সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া। তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে আসা বাসে পদুয়ারবাজারের হোটেল নূরজাহানে নামে তাজমীন। সেখান থেকে নগরের রেইসকোর্স এলাকার বাসায় যাওয়ার জন্য একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে সে। পুলিশের দাবি, চালক সুমন তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করেন।

পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানখেত থেকে তাজমীনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে তার কক্সবাজার যাত্রা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় এবং হত্যাকাণ্ডের আগের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে তদন্ত চলছে।

Share the news

সর্বাধিক পঠিত

Link copied to clipboard!