নিজস্ব প্রতিবেদক
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম জ্বালানি নিয়ে একটি বিশেষ কার্গো বিমান ঢাকায় পৌঁছেছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে বিমানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইউরেনিয়াম বহনকারী বিমানটি বাংলাদেশে আসার সময় পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করেনি। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে তাদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় বিকল্প রুট হিসেবে চীনের আকাশসীমা ব্যবহার করে চালানটি বাংলাদেশে আনা হয়।
এর আগে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় ইউরেনিয়াম জ্বালানি পরিবহনের সময়সূচি পিছিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার চালানটি ঢাকায় পৌঁছানোর কথা থাকলেও লজিস্টিক জটিলতার কারণে তা সম্ভব হয়নি।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত চালানটি ঢাকায় পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিমানবন্দরে ইউরেনিয়াম পৌঁছানোর পর সেটি নিরাপদে নির্ধারিত গন্তব্যে নেওয়ার জন্য পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ২০২৩ সালে প্রথমবারের মতো পারমাণবিক জ্বালানি বাংলাদেশে পৌঁছায়। পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহ কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দেয়।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক প্রতিষ্ঠান রোসাটম জানিয়েছে, রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুটি ইউনিট রয়েছে। এ দুই ইউনিটের সম্মিলিত বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। কর্মকর্তারা আশা করছেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ কেন্দ্রটি থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে।
ঢাকা থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার দূরে পাবনার ঈশ্বরদীতে রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় প্রকল্পটি নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটির আনুমানিক ব্যয় প্রায় ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
