Skip to main content

সাজেকে ৩ হাজার পর্যটককে নিরাপদে সরানো হলো, গুলিবর্ষণের অভিযোগ

�
• 3 min • 22 views

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাঙামাটির সাজেকে পর্যটক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে গঙ্গারাম বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় সাজেকে আটকে পড়া প্রায় তিন হাজার পর্যটককে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহায়তায় নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে গঙ্গারাম বাজার এলাকায় সড়ক অবরোধ করে যান চলাচল বন্ধ করে দেন অবরোধকারীরা। এতে সাজেক-বাঘাইহাট সড়কে পর্যটকবাহী যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সাজেকে বেড়াতে যাওয়া প্রায় তিন হাজার পর্যটক আটকা পড়েন।

আইএসপিআরের দাবি, ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) সশস্ত্র সদস্যরা স্থানীয় লোকজনকে জোরপূর্বক মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এ অবরোধ সৃষ্টি করেন।

আলোচনার উদ্যোগ, পরে গুলিবর্ষণ

পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সেনাবাহিনী ও পুলিশের টহল দল অবরোধকারীদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেয়। তবে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে অবরোধকারীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও পর্যটকদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন বলে আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী লাঠিচার্জ করে অবরোধকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। পরে পর্যটকবাহী যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বেলা ১১টার দিকে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও পর্যটকদের লক্ষ্য করে আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ রাউন্ড গুলি ছোড়েন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ সময় আত্মরক্ষা এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর টহল দল পাল্টা গুলি চালায়। একপর্যায়ে সশস্ত্র ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

নিরাপদে সরানো হয় আটকে পড়া পর্যটকদের

গুলিবর্ষণের ঘটনার পর সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়। তাদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় প্রায় তিন হাজার পর্যটককে নিরাপদে খাগড়াছড়িতে সরিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে আইএসপিআর।

ঘটনাকে পূর্বপরিকল্পিত বলছে আইএসপিআর

আইএসপিআরের ভাষ্য অনুযায়ী, অবরোধ ও সহিংসতার ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয় লোকজনকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অবরোধে অংশ নিতে বাধ্য করা এবং মানবঢাল হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও দাবি করা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর চলমান অভিযানের কারণে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের একটি অংশ কোণঠাসা হয়ে পর্যটন এলাকায় অবস্থান নিয়েছে।

আইএসপিআর বলেছে, এ ধরনের সহিংসতা পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও জননিরাপত্তার পাশাপাশি পর্যটনশিল্প এবং স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেসামরিক প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে সেনাবাহিনীর কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

সূত্র: আইএসপিআর

Share the news

সর্বাধিক পঠিত

Link copied to clipboard!