Skip to main content

সিভিতে মিথ্যা তথ্যের অভিযোগে পুতুলের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন

�
• 3 min • 24 views

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগ পাওয়ার জন্য জীবনবৃত্তান্তে (সিভি) মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রোববার (১৮ অক্টোবর) এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান দুদকের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান।

এর আগে ২০২৫ সালের ২০ মার্চ ডব্লিউএইচওতে চাকরি পেতে মিথ্যা তথ্য ব্যবহার এবং সূচনা ফাউন্ডেশনের নামে ২০টি ব্যাংক থেকে ৩৩ কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করে দুদক।

দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগের জন্য জমা দেওয়া সিভিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বর্তমানে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) ‘অনারারি স্পেশালিস্ট/এক্সপার্ট’ হিসেবে কাজ করার তথ্য উল্লেখ করেন পুতুল। দুদকের দাবি, ওই অভিজ্ঞতার তথ্য ছিল মিথ্যা ও বানোয়াট এবং তা ব্যবহার করেই তিনি সংস্থাটির আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগ পান।

দুদকের তদন্তে বলা হয়েছে, পুতুল ন্যাশনাল অ্যাডভাইজরি কমিটি অন অটিজম অ্যান্ড নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার এবং সূচনা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সিভিতে মিথ্যা তথ্য দেওয়া এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রের সুনাম ক্ষুণ্ণ করেছেন বলেও তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সিভিতে উল্লেখ করা তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সুযোগ না দিয়েই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নথিপত্র প্রস্তুত ও পাঠানোর জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়। পরে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন এবং জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থায় নিয়োজিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ডব্লিউএইচওর সদর দপ্তরে এসব তথ্য পাঠানো হয়। এরপর পুতুল ওই পদে নিয়োগ পান বলে দুদকের তদন্তে দাবি করা হয়েছে।

দুদকের এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০২৩ সালে ডব্লিউএইচওতে আবেদনের সময় সায়মা ওয়াজেদ হোসেন ওরফে সায়মা বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা কিংবা শিক্ষা ম্যানুয়াল তৈরি ও পর্যালোচনার কাজে যুক্ত থাকার দাবি করেন। অথচ এসব কাজে অংশ না নিয়েই তিনি নিজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে সংস্থাটি।

এজাহারে বলা হয়েছে, এসব কর্মকাণ্ড দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধের আওতায় পড়ে।

দুদকের নথি অনুযায়ী, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের মাধ্যমে ২০১৭ সালে অটিজম ও স্নায়ুবিকাশজনিত সমস্যাবিষয়ক জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপারসন নিযুক্ত হন সায়মা ওয়াজেদ। ওই দায়িত্বে থাকার সময় ২০২৩ সালে ডব্লিউএইচওতে জমা দেওয়া সিভিতে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা, শিক্ষা ম্যানুয়াল পর্যালোচনা এবং অটিজম ও মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে কারিগরি বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেছিলেন বলে এজাহারে বলা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হবে।

Share the news

সর্বাধিক পঠিত

Link copied to clipboard!