Skip to main content

অস্ট্রেলীয় আইনপ্রণেতাকে গাড়িচাপা, অস্ত্রোপচারে বিচ্ছিন্ন দুই পা

�
• 3 min • 20 views

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অস্ট্রেলিয়ার স্বতন্ত্র আইনপ্রণেতা হেলেন হেইনসকে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত ৬৫ বছর বয়সি এই রাজনীতিকের অস্ত্রোপচারের সময় দুই পা-ই বিচ্ছিন্ন করতে হয়েছে। তবে বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছেন তার স্বামী ফিল হেইনস।

বুধবার হাসপাতালে সাংবাদিকদের তিনি জানান, ভয়াবহ এ ঘটনার পরও হেলেন বেঁচে আছেন। পরিবারের কাছে এটাই সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয়।

ফিল বলেন, ‘এত কিছুর মধ্যেও সবচেয়ে বড় সুখবর হলো, হেলেন বেঁচে আছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। আমাদের পরিবারের কাছে এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

স্ত্রীর ব্যক্তিত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, হেলেন অত্যন্ত সহানুভূতিশীল, যত্নশীল ও ভালোবাসাপূর্ণ একজন মানুষ। তার হৃদয় ও মনই পরিবারের কাছে সবচেয়ে মূল্যবান।

কার্যালয়ের কাছে গাড়ির ধাক্কায় আহত

সোমবার ভিক্টোরিয়া রাজ্যের রাজধানী মেলবোর্ন থেকে ২০০ কিলোমিটারের বেশি উত্তর-পূর্বে ওয়াংগারাট্টা শহরে নিজের কার্যালয়ের কাছে গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হন হেলেন। পুলিশ ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হামলা হিসেবে উল্লেখ করেছে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত ৪৩ বছর বয়সি ব্রেন্ডান নুজেন্টকে বুধবার আদালতে হাজির করা হয়। তার বিরুদ্ধে বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালিয়ে গুরুতর আহত করা, ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাত করা এবং একজন সরকারি কর্মকর্তার ক্ষতিসাধনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় আইনের আওতায় সরকারি কর্মকর্তার ক্ষতিসাধনের অভিযোগে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। আদালতের নথি অনুযায়ী, নুজেন্টের বিরুদ্ধে গাঁজার গাছ চাষ ও মাদক রাখার অভিযোগও রয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াংগারাট্টার আদালতে হাজির হয়ে নুজেন্ট জামিনের আবেদন করেননি। আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

হামলার উদ্দেশ্য খুঁজছে পুলিশ

হেলেনের ওপর হামলার পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত চলমান থাকায় এ বিষয়ে অনুমান করতে রাজি হয়নি কর্তৃপক্ষ।

ভিক্টোরিয়া পুলিশের কমিশনার মাইক বুশ বুধবার জানান, তদন্তকারীরা সম্ভাব্য সব সূত্র খতিয়ে দেখছেন। অভিযুক্তের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কর্মকাণ্ড, তার বন্ধু, পরিচিতজন ও সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়গুলোও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

বুশ বলেন, অভিযুক্তের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা যাচাই করার পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শী, বন্ধু ও সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলছে পুলিশ।

তিনি আরও জানান, অভিযুক্তের বিষয়ে আগে থেকে পুলিশের কাছে কোনো গোয়েন্দা তথ্য ছিল না। হামলার আগে তিনি তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি তৈরি করতে পারেন—এমন ইঙ্গিতও পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দেশটিতে রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে হুমকি ও হয়রানির বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

সূত্র: এএফপি

Share the news

সর্বাধিক পঠিত

Link copied to clipboard!