আন্তর্জাতিক ডেস্ক
চীনে ৩৫ তলা ভবন থেকে পড়ে গুরুতর আহত হওয়ার পরও প্রাণে বেঁচে গেছেন ২৭ বছর বয়সী এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনফ্লুয়েন্সার। দীর্ঘ ১৭ মাস চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর প্রায় সুস্থ হয়ে আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফিরেছেন তিনি। ফিরে এসে দুর্ঘটনার কঠিন সময়ে যারা পাশে ছিলেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এই তরুণী।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ও সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনের মধ্যাঞ্চলীয় হুনান প্রদেশের বাসিন্দা ওই ইনফ্লুয়েন্সার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘@wananan’ নামে পরিচিত। দীর্ঘ বিরতির পর গত ১২ অক্টোবর তিনি আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হন। এ সময় জানান, দুর্ঘটনায় পাওয়া গুরুতর আঘাত থেকে অনেকটাই সেরে উঠেছেন তিনি।
২০২৫ সালে ঘটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে দুর্ঘটনাবশত একটি ভবনের ৩৫ তলা থেকে নিচে পড়ে যান ওই তরুণী। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত চীনের সেন্ট্রাল সাউথ ইউনিভার্সিটির থার্ড জিয়াংইয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এরপর দীর্ঘ সময় ধরে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের মধ্য দিয়ে যেতে হয় তাকে। শারীরিকভাবে সুস্থ হয়ে ওঠার পাশাপাশি কঠিন এই সময় পার করে অবশেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফিরে নিজের অভিজ্ঞতা অনুসারীদের সঙ্গে ভাগ করে নেন তিনি।
‘জীবন যেন নতুন করে ফিরে পেয়েছি’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে নিজের বেঁচে ফেরাকে নতুন জীবনের সূচনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন ওই ইনফ্লুয়েন্সার। তার অনুভূতি, দুর্ঘটনার পর জীবন যেন তাকে নতুন করে বাঁচার সুযোগ দিয়েছে।
চিকিৎসা ও সুস্থ হয়ে ওঠার দীর্ঘ যাত্রায় যারা তাকে সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতিও গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। তরুণী জানান, এখন জীবনকে শুধু নিজের বলে মনে করেন না; বরং যারা তাকে বেঁচে থাকতে সাহায্য করেছেন, তাদের সবার সঙ্গেও এই জীবনের গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
জীবনের এই দ্বিতীয় সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পাশে থাকা মানুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে যেতে চান বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ফিরে আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা
দীর্ঘ বিরতির পর ওই তরুণীর ফিরে আসার খবর চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ৩৫ তলা থেকে পড়ে যাওয়ার পরও প্রাণে বেঁচে থাকা এবং দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে প্রায় সুস্থ হয়ে ওঠার ঘটনা অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
তার এই প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে মানুষের আগ্রহের পাশাপাশি নতুন করে জীবন শুরু করা, কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং পাশে থাকা মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতার বিষয়গুলোও আলোচনায় এসেছে।
সূত্র: এনডিটিভি, সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট
