Skip to main content

মিয়ানমারের কারাগারে ছয় মাস, দেশে ফেরার অপেক্ষায় রামগতির ৮ জেলে

�
• 3 min • 36 views

নিজস্ব প্রতিবেদক

বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে মিয়ানমার নৌবাহিনীর হাতে আটক হয়ে ছয় মাস ধরে কারাগারে রয়েছেন লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার আট জেলেসহ ১৫ বাংলাদেশি জেলে। অনুপ্রবেশের অভিযোগে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিরা কারাগারে থাকায় চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন স্বজনেরা।

গত ২৫ মার্চ সেন্টমার্টিনের কাছাকাছি জলসীমা থেকে ‘এফবি মা-বাবার দোয়া’ নামের একটি মাছ ধরার ট্রলারসহ জেলেদের আটক করে মিয়ানমার নৌবাহিনী। পরে অনুপ্রবেশের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

আটক জেলেদের মধ্যে রামগতির আটজন ছাড়াও লক্ষ্মীপুরের কমলনগর, নোয়াখালীর সুবর্ণচর, চট্টগ্রামের পাহাড়তলী, ভোলার দৌলতখান ও কক্সবাজারের মহেশখালীর বাসিন্দা রয়েছেন।

অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় দেশে ফিরেছে তাহমীদ

আটক জেলেদের মধ্যে রামগতির চর গজারিয়া এলাকার মো. তাহমীদ অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় সম্প্রতি মুক্তি পেয়ে দেশে ফিরেছে। তার বয়স ১৫ বছর।

দেশে ফিরে তাহমীদ দাবি করেছে, মিয়ানমারের কারাগারে থাকা বাংলাদেশি জেলেরা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। তাদের পর্যাপ্ত খাবারও দেওয়া হচ্ছে না বলে সে জানিয়েছে।

একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে সংকটে পরিবার

বন্দী জেলেদের অধিকাংশই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাদের দীর্ঘদিন অনুপস্থিতিতে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন স্বজনেরা। এর মধ্যে অনেক পরিবারই নদীভাঙনের কারণে ভিটেমাটিহীন অবস্থায় রয়েছে।

চর পোড়াগাছা ইউনিয়নের ভূলুয়া নদীর তীরে বসবাসরত জেলে মো. নিরবের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার বলেন, তাদের নিজস্ব কোনো জায়গা নেই। নদীর পাড়ে ছোট একটি ঘর তুলে শাশুড়ি, দুই ননদ ও দুই মেয়েকে নিয়ে থাকছেন তিনি। নিরবই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। স্বামী আটক হওয়ার পর সংসারে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে বলে জানান তিনি।

একই উপজেলার চর আলেকজান্ডার ইউনিয়নের সোনালী গ্রামের জেলে ফরহাদ হোসেনের মা ফরিদা বেগম জানান, নদীভাঙনে তাদের ভিটেমাটি হারিয়ে গেছে। তার স্বামী দুর্ঘটনায় পঙ্গু হয়ে বাড়িতেই থাকেন। চার সদস্যের সংসারে ফরহাদই ছিলেন একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। ছেলে কারাগারে থাকায় পরিবারটি মানবেতর জীবনযাপন করছে বলে জানান তিনি।

দেশে ফেরাতে স্বজনদের নানা উদ্যোগ

বন্দী জেলেদের দেশে ফিরিয়ে আনতে স্বজনেরা মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনেও তারা মানববন্ধন করেন। একই সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেছেন তারা। তবে এখনো জেলেদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সমাধান হয়নি।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সিতওয়েতে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনের প্রধান আবদুল্লাহ আল রাজি জানান, জলসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগে রামগতির আটজনসহ প্রায় ১৮০ জন বাংলাদেশি মিয়ানমারের বিভিন্ন কারাগারে বন্দী রয়েছেন। তাদের মুক্তির জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ক্ষমা ও মুক্তির আবেদন জানানো হয়েছে।

রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দীন এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান জানান, বন্দী জেলেদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক পর্যায়ে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

ছয় মাস ধরে মিয়ানমারের কারাগারে থাকা রামগতির আট জেলের পরিবার এখন স্বজনদের দেশে ফেরার অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষগুলো দ্রুত দেশে ফিরতে না পারলে এসব পরিবারের দুর্ভোগ আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্বজনেরা।

Share the news

সর্বাধিক পঠিত

Link copied to clipboard!