আন্তর্জাতিক ডেস্ক
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিপুল অর্থ ব্যয় এবং মূল ব্যবসায় এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বিশ্ব প্রযুক্তি বাজারে। বিজ্ঞাপন থেকে আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কায় গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেটের বাজারমূল্য একদিনে ৫০ হাজার কোটি ডলারের বেশি কমেছে। একই সময়ে এআই খাতে অতিরিক্ত বিনিয়োগ নিয়ে চাপে পড়েছে অ্যামাজনও। তবে মাইক্রোসফটের শেয়ারে পতন তুলনামূলক কম ছিল।
গুগলের প্রধান ব্যবসায় কর্মকর্তা ফিলিপ শিন্ডলার জানান, প্রতিষ্ঠানটির নতুন ‘এআই মোড’-এ ব্যবহারকারীরা সরাসরি কথোপকথনের মাধ্যমে প্রশ্নের উত্তর পাচ্ছেন। এতে প্রচলিত সার্চ পেজে প্রদর্শিত বিজ্ঞাপন থেকে আগের মতো আয় হচ্ছে না। তবে সাময়িকভাবে বিজ্ঞাপনের আয় কমলেও দীর্ঘমেয়াদে এআই-নির্ভর সার্চ ইঞ্জিন নিয়ে আশাবাদী গুগল।
অ্যালফাবেটের প্রকাশিত ত্রৈমাসিক হিসাব অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির মোট আয় ২৫ শতাংশ বেড়ে ১২৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। কিন্তু বিজ্ঞাপন থেকে আয় প্রত্যাশা অনুযায়ী না বাড়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। এর প্রভাবে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ১২ শতাংশের বেশি কমে ছয় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়।
দিনশেষে অ্যালফাবেটের বাজারমূল্য দাঁড়ায় ৩ দশমিক ৪৬ ট্রিলিয়ন ডলারে। আগের দিন এ মূল্য ছিল ৩ দশমিক ৯৭ ট্রিলিয়ন ডলার। বিশ্লেষকদের মতে, প্রচলিত ব্যবসা সচল রেখে এআইয়ের মতো ব্যয়বহুল খাতে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
এআই বিনিয়োগে চাপে অ্যামাজন
গুগলের পাশাপাশি মাইক্রোসফট ও অ্যামাজনও এআই খাতে বিনিয়োগ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে ব্যয় নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে অ্যামাজনের শেয়ারের দাম ৬ শতাংশ কমেছে।
অ্যামাজনের বিক্রি ১১ শতাংশ বেড়ে ২০১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছালেও প্রতিষ্ঠানটির নগদ অর্থের প্রবাহে ৪২ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অর্থাৎ আয় বাড়লেও বিনিয়োগ ও পরিচালন ব্যয়ের চাপ রয়েছে।
অ্যামাজনের প্রধান নির্বাহী অ্যান্ডি জ্যাসি বলেন, ক্লাউড সেবা, খুচরা বিক্রি এবং নিজস্ব চিপ তৈরির মাধ্যমে ভবিষ্যতে ট্রিলিয়ন ডলারের আয়ের সুযোগ রয়েছে। ব্যয় নিয়ে সমালোচনা থাকলেও এসব বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায় দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মাইক্রোসফটের শেয়ারে কম পতন
ওয়াল স্ট্রিটে মাইক্রোসফটের শেয়ারের দরপতন ছিল ১ শতাংশেরও কম। ওপেনএআইয়ের বড় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানটি এআই খাতে বিনিয়োগের পাশাপাশি ব্যয় কমাতে কর্মী ছাঁটাইয়ের পথও বেছে নিয়েছে।
এ ত্রৈমাসিকে মাইক্রোসফটের আয় ১৯ শতাংশ বেড়ে ৯২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। প্রতিষ্ঠানটির এআই চ্যাটবট ‘কোপাইলট’-এর ব্যবহারও দ্রুত বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি খাতে এআই নিয়ে প্রতিযোগিতা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। তবে বিপুল বিনিয়োগের পর কোন প্রতিষ্ঠান এআই থেকে বাস্তব ও টেকসই মুনাফা অর্জন করতে পারবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
