Skip to main content

২০৩১ সাল পর্যন্ত ফিফার দায়িত্বে থাকতে চান ইনফান্তিনো

�
• 3 min • 19 views

ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব নিয়ে বিতর্কিত প্রস্তাবের জেরে সমালোচনার মুখে পড়লেও ফিফা সভাপতির পদ ছাড়ার পরিকল্পনা নেই জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর। বরং ২০৩১ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে চতুর্থ মেয়াদে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) সমর্থন পাওয়ার পর নিজের অবস্থান নিয়ে আরও আত্মবিশ্বাসী এই ফুটবল প্রশাসক।

গত জুলাইয়ে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে অংশীদারত্ব বিক্রির প্রস্তাব সামনে আনে ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই)। উদ্যোগটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হলে শেষ পর্যন্ত প্রস্তাবটি থেকে সরে আসে ফিফা। এরপর ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবিও ওঠে।

তবে পদত্যাগের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফিফা সভাপতি জানান, দায়িত্ব ছাড়ার কোনো পরিকল্পনা তাঁর নেই। তিনি বলেন, ফিফার ২১১টি সদস্য সংস্থার ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। এত বড় একটি প্রতিষ্ঠানে মতপার্থক্য ও ভিন্নমত থাকাটাই স্বাভাবিক।

ইনফান্তিনোর ভাষ্য, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রত্যেকের মতামত ও ভোটের সমান মূল্য রয়েছে। একই সঙ্গে কোনো বিষয়ে সদস্যদের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের মতামত থাকলে সেটিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। ফুটবল সবার—এই ধারণা থেকেই সিদ্ধান্ত গ্রহণে সদস্য সংস্থাগুলোর মতামতকে প্রাধান্য দেওয়ার কথা বলেন তিনি।

চতুর্থ মেয়াদে ইনফান্তিনোর দায়িত্ব পালনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন এএফসি সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা। শুক্রবার তিনি জানান, এশিয়ার ফুটবল প্রশাসন ইনফান্তিনোর পাশে ঐক্যবদ্ধ রয়েছে।

নিজের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থনের কথা তুলে ধরে ইনফান্তিনো জানান, সম্প্রতি টোকিও সফরে এএফসির পূর্ণ সমর্থন পেয়েছেন তিনি। এ ছাড়া কেপ ভার্দে সফরে আফ্রিকার দেশগুলোর সমর্থনও পেয়েছেন বলে দাবি করেন ফিফা সভাপতি। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের ফুটবল সংস্থার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন বলেও জানান তিনি।

তবে এফএফই প্রস্তাব নিয়ে বিতর্কের সময় পরিস্থিতি ভিন্ন ছিল। তখন এএফসি ও উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনকাকাফ ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফার সঙ্গে সমালোচনায় যোগ দিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এএফসির অবস্থান পরিবর্তন এবং কনকাকাফের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দেওয়ায় এ ইস্যুতে ইউরোপীয় পক্ষের অবস্থান তুলনামূলকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

গত সপ্তাহে জুরিখে ফিফা কাউন্সিলের বৈঠকে এফএফই প্রস্তাব যেভাবে পরিচালনা করা হয়েছিল, তা নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চান ইনফান্তিনো। তবে তাঁর এই পদক্ষেপেও জার্মানি ও ইংল্যান্ডের মতো ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থাগুলোর অসন্তোষ পুরোপুরি দূর হয়নি।

ইনফান্তিনো স্বীকার করেন, সব পক্ষের মতামতকে এক জায়গায় নিয়ে আসা সহজ নয়। তবে মতভিন্নতা থাকলেও সবাইকে সামনে এগিয়ে যেতে হবে এবং প্রত্যেকের বক্তব্যের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

২০২৭ সালের মার্চে ফিফা সভাপতির পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই নির্বাচনে চতুর্থ মেয়াদে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রার্থী হতে পারেন ইনফান্তিনো। সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৮ নভেম্বর।

ফিফার ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্ধারণের দায়িত্ব সদস্য সংস্থাগুলোর হাতেই থাকবে বলে জানিয়েছেন ইনফান্তিনো। তাঁর মতে, কে সভাপতি হবেন এবং সংস্থাটি কীভাবে পরিচালিত হবে, সে সিদ্ধান্ত নেবেন সদস্যরা

Share the news

সর্বাধিক পঠিত

Link copied to clipboard!