Skip to main content

শান্তি ও সম্প্রীতিই যৌথ সমৃদ্ধির ভিত্তি: প্রধানমন্ত্রী

�
• 3 min • 35 views

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে বাংলাদেশ ইতিবাচকভাবে কাজ করে যাবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সংলাপ, অংশীদারত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতেই এগিয়ে যেতে চায় বাংলাদেশ। কারণ শান্তি ও সম্প্রীতিই যৌথ সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের ভিত্তি।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন (বিওবিসি) ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ৩ থেকে ৫ অক্টোবর এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে সমুদ্রবন্দর, নৌপথ ও উপকূলীয় অর্থনীতির মাধ্যমে বিশ্বের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। জাহাজ চলাচল, মৎস্যসম্পদ, পর্যটন, জ্বালানি ও আঞ্চলিক সরবরাহব্যবস্থায় রয়েছে ব্যাপক সম্ভাবনা।

তিনি বলেন, অভিন্ন ভৌগোলিক অবস্থানকে অভিন্ন সমৃদ্ধিতে রূপ দিতে হলে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। বাণিজ্য, জ্বালানি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, জলবায়ু ও সমুদ্র খাতে পারস্পরিক সহযোগিতার পরিধি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, নতুন বাজার তৈরির পাশাপাশি তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান ও সম্ভাবনার ক্ষেত্র সম্প্রসারণ করা সম্ভব। সমতা, ন্যায্যতা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করা যেতে পারে।

বঙ্গোপসাগরকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্ভাবনার অন্যতম ভিত্তি উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই সাগর বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণে ভূমিকা রেখে আসছে। তিনি বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলকে এমন একটি সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান, যেখানে দেশগুলো সম্মিলিতভাবে উন্নতি করবে এবং পারস্পরিক সুবিধা নিশ্চিত হবে।

সরকারের আগামী পাঁচ বছরের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা, নীতিমালার ধারাবাহিকতা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এখন প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময়।

আয়োজক সিজিএস জানিয়েছে, এবারের সম্মেলনে ভূরাজনীতি, নিরাপত্তা ও কৌশলগত প্রতিযোগিতা; কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবারস্পেস ও তথ্যক্ষমতা; বাণিজ্য, সংযোগ ও কৌশলগত প্রবৃদ্ধি; জলবায়ু, সহনশীলতা ও মানবনিরাপত্তা এবং আস্থা, গণতন্ত্র ও সুশাসন—এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে।

‘ফ্র্যাগমেন্টস, ফ্রন্টিয়ার্স অ্যান্ড ফিউচারস: নেভিগেটিং পাওয়ার, টেকনোলজি অ্যান্ড ট্রাস্ট ইন আ ওয়ার্ল্ড রিরিটেন’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত সম্মেলনে শতাধিক দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। এতে প্রায় ২০০ বক্তা, ৩০০-এর বেশি প্রতিনিধি এবং এক হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারীর উপস্থিতির কথা জানিয়েছে আয়োজকরা।

সম্মেলনে সার্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বরিস তাদিচ, মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদ এবং মালির সাবেক প্রধানমন্ত্রী মুসা মারাসহ বিভিন্ন দেশের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা, কূটনীতিক, নীতিনির্ধারক, গবেষক, ব্যবসায়ী, প্রযুক্তিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নিচ্ছেন।

Share the news

সর্বাধিক পঠিত

Link copied to clipboard!