Skip to main content

বুয়েটের প্রকৌশলী থেকে শিক্ষক, দুই হাতহীন আলতাফ—তিনজনের পাশে প্রধানমন্ত্রী

�
• 3 min • 28 views

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজ নিজ কর্ম ও উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করা তিন ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে তাঁদের জীবনসংগ্রাম, ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের কথা শোনেন তিনি। এ সময় তাঁদের কাজের প্রশংসা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।

সাক্ষাৎ করা তিন ব্যক্তি হলেন—বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে পড়াশোনা শেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, জন্ম থেকেই দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেন এবং প্রায় তিন দশক ধরে নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো ভোলার রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।

তাঁদের কাজের অভিজ্ঞতা ও জীবনসংগ্রামের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’

বুয়েট থেকে পাস করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নায়লা

নায়লা শারাফ বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে প্রথমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। পরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন নায়লা। গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন তিনি।

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ ও আনন্দদায়ক করতে নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন শিক্ষাসামগ্রী এবং ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করেন নায়লা। তাঁর এই উদ্যোগ শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখছে।

দুই হাত না থাকলেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা আলতাফের

শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেন। জন্ম থেকেই তাঁর দুই হাত নেই। তবে পা দিয়ে লেখালেখি শিখে নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়নে এগিয়ে যান তিনি।

২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল। নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রি করে পাওয়া অর্থ দিয়ে গড়ে তোলেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি।

বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। তাঁদের পাঠদানের দায়িত্বে রয়েছেন ১০ জন শিক্ষক। নিজের দৈনন্দিন কাজের পাশাপাশি পা দিয়ে লেখালেখি করে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমও পরিচালনা করেন আলতাফ।

তাঁর জীবনসংগ্রাম ও বিদ্যালয় পরিচালনার কথা শুনে নতুন স্কুল ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিন দশক ধরে বৃক্ষরোপণে রেজাউল কিবরিয়া

পরিবেশ রক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি।

বৃক্ষরোপণের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে একটি নার্সারি গড়ে তোলেন রেজাউল কিবরিয়া। সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ করেন। তাঁর লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।

ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিবেশ রক্ষায় তাঁর দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টাও প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা অর্জন করে।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তিনজনের উদ্যোগের প্রশংসা করে তাঁদের নিজ নিজ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার জন্য উৎসাহ দেন। সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের অবদান গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে অনুপ্রাণিত করতে পারে।

এ সময় তাঁদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাসও দেন প্রধানমন্ত্রী।

Share the news

সর্বাধিক পঠিত

Link copied to clipboard!